ওমিক্রন রোধে জাবির সশরীরে ক্লাস বন্ধ

করোনাভাইরাসের নতুন ধরন ওমিক্রনের সংক্রমণ রোধে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ে সশরীরে ক্লাস বন্ধ রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ। বুধবার (৫ জানুয়ারি) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক প্রশাসনিক সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তবে চলমান পরীক্ষা, ব্যবহারিক ক্লাস এবং দাপ্তরিক কার্যক্রম সশরীর অব্যাহত থাকবে।

আজ বৃহস্পতিবার (৬ জানুয়ারি) বিশ্ববিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত রেজিস্ট্রার রহিমা কানিজ কালের কণ্ঠকে এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন। মঙ্গলবার রাতে হল প্রাধক্ষ্য ও ডিনদের এক সভায় এ ব্যাপারে আলোচনা হয়েছে। ওই আলোচনার প্রেক্ষিতে গতরাতে প্রশাসনিক সভায় বিষয়টি চূড়ান্ত করা হয়।

রহিমা কানিজ বলেন, ‘দেশব্যাপী করোনার প্রকোপ বিবেচনায় পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত সশরীরে ক্লাস বন্ধ থাকবে। তবে চলমান পরীক্ষা ও ব্যবহারিক ক্লাসগুলো স্বাস্থ্যবিধি মেনে অব্যাহত থাকবে। প্রয়োজনে পরীক্ষার হল বৃদ্ধি ও ব্যবহারিক পরীক্ষার ক্ষেত্রে গ্রুপ সংখ্যা বৃদ্ধি করা হবে। বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক হলগুলোতে বড় পরিসরে আইসোলেশান করার কথাও ভাবা হচ্ছে। আপাতত, প্রতি হলে কমপক্ষে চারজন শিক্ষার্থীর জন্য আইসোলেশানের ব্যবস্থাগ্রহণ করার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।’

কোনো শিক্ষার্থীর করোনা উপসর্গ দেখা দিলে তাকে বিশ্ববিদ্যালয়ের চিকিৎসা কেন্দ্র থেকে রেফারেন্স নিয়ে সাভার উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ১০০ টাকায় করোনা পরীক্ষা করার অনুরোধ জানানো হয়েছে।

এদিকে, বিভিন্ন সূত্রে খবর পাওয়া গেছে বিশ্ববিদ্যালয়ের বেশ কয়েকজন শিক্ষক করোনায় আক্রান্ত। এদের মধ্যে অধ্যাপক সোহেল আহমেদ, হানিফ আলী, মো. খালিদ কুদ্দুস রয়েছেন।

এ বিষয়ে অধ্যাপক মো. খালিদ কুদ্দুস বলেন, ‘আপাতত ভালো আছি। তেমন কোনো উপসর্গ নেই। তবে একটু কাশি ছিল তাই পরীক্ষা করিয়েছিলাম। পরীক্ষায় করোনা ধরা পড়েছে।’

অপরদিকে সরকারি নির্দেশনার আগে হল বন্ধের কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের কোষাধ্যক্ষ রাশেদা আখতার।

তিনি বলেন, ‘সরকার নির্দেশনা দিলে আবাসিক হল বন্ধ ঘোষণা করা হবে। তার আগে শিক্ষার্থীদের মধ্যে করোনার বিস্তার বাড়লে প্রাধ্যক্ষদের খালি বাসাগুলোতে তাঁদের স্থানান্তর করা হবে।’

এ বিষয়ে উপাচার্য অধ্যাপক ড. ফারজানা ইসলাম বলেন, ‘আমারা আপাতত অনলাইন ক্লাসের দিকে যাচ্ছি। তারপর আমরা দেখবো কি অবস্থা দাঁড়ায়। শিক্ষার্থীরা যেহেতু এখন হলে থাকে সুতরাং তারা ওখানে থেকেই অনলাইনে ক্লাস করুক। হলে থাকা অবস্থায় কারো কিছু হলে আমরা তার চিকিৎসার ব্যবস্থা করবো। শিক্ষার্থীদের অনুরোধ করছি তারা যেন মাস্ক পরে, সাথে হ্যান্ড স্যানিটাইজার রাখে এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলে। খারাপ অবস্থা যাতে না হয় সেজন্য অনলাইনে যাওয়া। একটু কমে আসলেই আবারও অনলাইন থেকে সরে আসা হবে।’

 

সূত্রঃ কালের কণ্ঠ

মূল প্রতিবেদনটি এখানে পেতে পারেন।