বর্তমান যুগে প্রায় ৯০ শতাংশ মানুষই অ্যান্ড্রয়েড ফোন ব্যবহার করেন। এটি বিশ্বের সবথেকে জনপ্রিয় মোবাইল প্লাটফর্ম। অ্যাপল ছাড়া আর যে কোনো স্মার্টফোনই অ্যান্ড্রয়েডে চলে। এটি একটি লিনাক্স বেসড অপারেটিং সিস্টেম। দেখতে দেখতে অ্যান্ড্রয়েডের ১০ বছর পূর্ণ হয়ে গেলো।
আসুন দেখে নেওয়া যাক অ্যান্ড্রয়েডের ভার্সানগুলি বিষয়ে কিছু তথ্য।
অ্যান্ড্রয়েড ১.০
অ্যান্ড্রয়েডের সর্বপ্রথম ভার্সান অ্যান্ড্রয়েড ১.০। এটি ২০০৮ সালের ২৩ সেপ্টেম্বর প্রথম বাজারে এসেছিলো। এর পরের বছর ৯ ফেব্রুয়ারি আসে অ্যান্ড্রয়েড ১.১।
অ্যান্ড্রয়েড ১.৫ কাপকেক
২০০৯ সালের এপ্রিলের মধ্যে বাজারে আসে অ্যান্ড্রয়েড ১.৫ কাপকেক। এটি সম্পূর্ণভাবে লিনাক্স কার্নেল ২.৬.২৭ ভার্সানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিলো। এই প্রথম অ্যান্ড্রয়েডে ব্যবহার হল কোডনেম।

অ্যান্ড্রয়েড ১.৬ ডোনাট
সেই বছরেরই ১৫ সেপ্টেম্বর বাজারে আসে অ্যান্ড্রয়েড ১.৬ ডোনাট। এটি পুরোপুরি লিনাক্স কার্নেল ২.৬.২৯ ভার্সানের উপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছিলো। মাস খানেকের মধ্যে আসে অ্যান্ড্রয়েড ২.০ এক্লেয়ার।
অ্যান্ড্রয়েড ২.০ ফ্রও
পরের বছর অর্থাৎ ২০১০ সালের ২০ মে বাজারে আসে অ্যান্ড্রয়েড ২.০ ফ্রও। এই ভার্সানটি নির্মিত হয়েছিলো লিনাক্স কার্নেল ২.৬.২৯ ভার্সানের উপর ভিত্তি করে। ওই বছরই বাজারে আসে অ্যান্ড্রয়েড ২.৩/ ২.৩.৭ জিঞ্জার ব্রেড। এটি তৈরি হয়েছিলো লিনাক্স কার্নেল ২.৬.৩৫ ভার্সানের উপর ভিত্তি করে।
হনিকম্ব
২০১১ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি আসে অ্যান্ড্রয়েড ৩.০/৩.২ হনিকম্ব। এটি নির্মাণ করা হয়েছিলো লিনাক্স কার্নেল ২.৬.৩৬ ভারসানের উপর ভিত্তি করে। প্রথম ডিভাইস যাতে এই ভার্সানটি ব্যবহার করা হয়েছিলো, সেটি ছিলো মোটরোলা ক্সুম ট্যাবলেট। এই ট্যাবলেটটি ২৪ ফেব্রুয়ারি ২০১১ তে লঞ্চ করেছিলো।
/images.anandabazar.com/polopoly_fs/1.891503.1541162628!/image/image.jpg_gen/derivatives/landscape_1035/image.jpg)
আইসক্রিম স্যান্ডউইচ
আট মাসের মধ্যে ফের চমক। অর্থাৎ ২০১১ সালেরই শেষ নাগাদ বাজারে আসে অ্যান্ড্রয়েড ৪.০ আইসক্রিম স্যান্ডউইচ।
জেলি বিন
২০১২ সালের ২৭ জুন আসে অ্যান্ড্রয়েড ৪.১ জেলি বিন। এটি লিনাক্স কার্নেল ৩.০.৩১ ভার্সানের উপর ভিত্তি করে তৈরি হয়েছিলো। অ্যান্ড্রয়েড ৪.১ জেলি বিন ভার্সানের প্রথম ডিভাইস ছিলো নেক্সাস ৭ ট্যাবলেট। এই ট্যাবলেট আসে ১৩ জুলাই, ২০১২।
কিটক্যাট
অ্যান্ড্রয়েড ৪.৪ কিটক্যাট ভার্সানটি বাজারে এসেছিলো ২০১৩ সালের ৩ সেপ্টেম্বর। এই ভার্সানটি এমনভাবে তৈরি করা হয়েছিল, যাতে এটি প্রচুর স্মার্ট ফোনে খুব ভালোভাবে চলতে পারে।
/images.anandabazar.com/polopoly_fs/1.891501.1541162593!/image/image.jpg_gen/derivatives/landscape_1035/image.jpg)
ললিপপ
এর এক বছরেরও বেশি পরে বাজারে আসে অ্যান্ড্রয়েড ৫.০/৫.১ ললিপপ। ললিপপ বা অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ অপারেটিং সিস্টেম সব ডিভাইসে ব্যবহারের উপযোগী এবং ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনীয় কাস্টোমাইজ সুবিধা দিয়ে তৈরি করা হয়েছিলো।
মার্শমেলো
পরের বছর ২৮ মে আসে অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শমেলো। ধারণা করা হচ্ছিলো, অ্যান্ড্রয়েড ৫.০ (ললিপপ) সংস্করণের পর ৫.২ সংস্করণ অবমুক্ত হতে পারে। কিন্তু অ্যান্ড্রয়েড প্রিয়দের অবাক করে নতুন সংস্করণ ৬.০ অবমুক্ত করেছিলো গুগল।
স্মার্টফোনে অর্থ লেনদেনে গুগলের নির্মিত অ্যাপ ব্যবস্থা ‘অ্যান্ড্রয়েড পে’ অ্যাপটি প্রথমবারের মতো যুক্ত করা হয়েছিলো অ্যান্ড্রয়েড ৬.০ মার্শমেলো সংস্করণে।
নোগাট
২০১৬ সেপ্টেম্বরে আসে অ্যান্ড্রয়েড ৭.০ নোগাট। গুগলের ডেভেলপার পোর্টালের তথ্যমতে, অ্যান্ড্রয়েড সংস্করণের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ব্যবহৃত হয়েছে অ্যান্ড্রয়েড নোগাট।
অ্যান্ড্রয়েডের আগের সংস্করণগুলোতে একসঙ্গে একটির বেশি সফটওয়্যার ব্যবহার করা যেত না। অর্থাৎ স্ক্রিনে একসঙ্গে একাধিক অ্যাপ্লিকেশন দেখা সম্ভব ছিলো না। স্যামসাং-সহ বেশ কয়েকটি প্রতিষ্ঠান আলাদা করে এই সুবিধা দিতো। এবার সেই সুবিধা সরাসরি যোগ হলো অ্যান্ড্রয়েড নোগাটে।
/images.anandabazar.com/polopoly_fs/1.891499.1541162572!/image/image.jpg_gen/derivatives/landscape_1035/image.jpg)
অ্যান্ড্রয়েড ওরিও
অ্যান্ড্রয়েড ওরিও ভার্সানটি বাজারে এসেছিল ২০১৭ সালের ২১ অগস্ট। অ্যানড্রয়েড অপারেটিং সিস্টেমের অষ্টম সংস্করণ। এটা প্রথম আলফা কোয়ালিটি ডেভেলপার প্রিভিউ হিশেবে ২০১৭ সালের মার্চ মাসে এবং সবার জন্যে আগস্ট ২১, ২০১৭ তারিখে উন্মুক্ত করা হয়।
অ্যান্ড্রয়েড পাই
অ্যান্ড্রয়েডের সর্বশেষ ভার্সান ৯.০ পাই মুক্তি পেয়েছে চলতি বছরের ৭ আগস্ট। অ্যান্ড্রয়েড পাইয়ের ফিচারকে প্রধানত তিনটি ভাগে ভাগ করা হয়েছে। এগুলো হলো- ইন্টেলিজেন্সি, সিমপ্লিসিটি এবং ডিজিটাল ওয়েলবিং। এই ভার্সানটি আপাতত গুগল পিক্সেল ফোনেই ব্যবহৃত হতে পারে।