১২ মাসে ৮ সাফল্য মহাকাশে

সিল্কসিটি নিউজ ডেস্ক:

মার্স ইনজেনুইটি হেলিকপ্টারের প্রথম চালিত ফ্লাইট থেকে শুরু করে জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ চালুসহ বেশ কয়েকটি পদক্ষেপের কারণে ২০২১ ছিল মানবজাতির মহাকাশ প্রচেষ্টার জন্য একটি বিশাল বছর। বিজ্ঞানের মাইলফলক পেরিয়ে ধনকুবেররাও নিয়েছেন মহাকাশের অমোঘ ঘ্রাণ। আর তারই পরিপ্রেক্ষিতে মহাকাশ এ বছর হয়ে উঠেছে পর্যটনের এক অভাবনীয় স্পট। বছরের প্রথম দিন থেকে শুরু করে গতে ১২ মাসে মহাকাশে মানবজাতির আট বড় সাফল্য তুলে ধরা হলো এই প্রতিবেদনে।

লালগ্রহে রোবট : ফেব্রুয়ারি মাসে নাসার পারসেভারেন্স রোভার ৭ মিনিটের সন্ত্রাস থেকে বেঁচে গিয়েছিল। এ সময় যানটি তার স্বয়ংক্রিয় সিস্টেমের ওপর নির্ভর করে অবতরণ করে লাল গ্রহের জেজেরো ক্রেটারের মাটি স্পর্শ করেছিল। তারপর থেকে গাড়ির আকারের রোবটটি তার মিশনের জন্য ফটো তুলেছে এবং নমুনা সংগ্রহের জন্য মঙ্গলের মাটি খুঁড়েছে- যেন লালগ্রহে জীবনের অস্তিত্ব আছে কি-না, তা বের করা যায়।

মহাকাশে ব্যক্তিগত অভিযান : একজন আমেরিকান কোটিপতি ২০০১ সালে বিশ্বের প্রথম মহাকাশ পর্যটক হয়েছিলেন, কিন্তু ব্যক্তিগত মহাকাশ ফ্ল্যাইটের প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়নে লেগে গিয়েছিল আরও ২০ বছর। জুলাই মাসে, ভার্জিন গ্যালাক্টিকের প্রতিষ্ঠাতা রিচার্ড ব্র্যানসন ব্লু অরিজিনের জেফ বেজোসের বিরুদ্ধে মুখোমুখি হন- যিনি প্রথম অপেশাদার মহাকাশচারী। একটি অর্বাবিটাল স্পেসফ্লাইট সম্পন্ন করেছিলেন তিনি। ইলন মাস্কের স্পেসএক্স সেপ্টেম্বরে ইন্সপিরেশন ফোর-এ একটি অল-সিভিলিয়ান ক্রু সমন্বিত পৃথিবীর চার পাশে তিন দিনের কক্ষপথ মিশন শুরু করেছিল। আর তখনই নিশ্চিত হয়ে যায়, মহাকাশ হয়ে উঠছে পর্যটনের উল্লেখযোগ্য স্পট। তারই ধারাবাহিকতায় বছর শেষে ১২ দিনের মহাকাশ যাত্রা শেষ করে ২০ ডিসেম্বর পৃথিবীতে ফিরেছেন জাপানি ৪৬ বছর বয়সি ধনকুবের ইউসাকু মায়েজাওয়া। রাশিয়ার সয়ুজ মহাযানে মহাকাশে পাড়ি জমিয়েছিলেন তিনি।

মহাকাশে চলচ্চিত্রের শ্যুটিং : মহাকাশে চলচ্চিত্রের শ্যুটিং শেষে অক্টোবরে ফিরে এসেছেন রুশ চলচ্চিত্রের কয়েকজন ক্রু। ক্লিম শিপেনকো এবং অভিনেতা ইউলিয়া পেরেসিল্ড আন্তর্জাতিক মহাশূন্য স্টেশন আইএসএস ত্যাগ করে কাজাখস্তানে অবতরণ করেন। তাদের প্রথিবীতে ফিরে আসার দৃশ্যটি আরেক ফিল্ম ক্রু ক্যামেরায় ধারণ করেন।

মহাকাশের বিশ্বায়নে যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্য ক্ষুণ্ন : স্নায়ুযুদ্ধের সময় মহাকাশে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র এবং সাবেক সোভিয়েত ইউনিয়নের আধিপত্য ছিল। এখন বাণিজ্যিক সেক্টরের বিস্ফোরণ ছাড়াও দম্ভ দেখাতে মহাকাশে চকচকে স্যাটেলাইট পাঠাচ্ছে চীন, ভারত এবং অন্যরা- যুক্তরাষ্ট্রের আধিপত্যকে ক্ষুণ্ন করেছে। এপ্রিল মাসে চীন চালু করেছিল তিয়াংগং (প্যালেস ইন দ্য স্কাই) মহাকাশ স্টেশন। তারা মহাকাশে এমন কিছু করার উদ্যোগ নিয়েছে যা অতীতে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র করেনি।

মহাকাশে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র -ক্ষুব্ধ আমেরিকা : বিকল হয়ে যাওয়া একটি স্যাটেলাইট ধ্বংস করতে মহাকাশে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে রাশিয়া। নভেম্বর মাসে ঘটানো এ ঘটনায় ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। তারা বলেছে, রাশিয়ার অ্যান্টি-মিসাইল নিক্ষেপ আন্তর্জাতিক মহাকাশ কেন্দ্রে অবস্থানরত ক্রুদের জীবন বিপন্ন করে তুলেছে- যা বিপজ্জনক ও দায়িত্বজ্ঞানহীন। ওই ঘটনায় মহকাশে এক হাজার ৫০০ টুকরো বর্জ্য তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করা হয়।

নতুন মহাশূন্য টেলিস্কোপ জেমস ওয়েব : মহাকাশ গবেষণায় এক নতুন যুগের সূচনা ঘটিয়ে বিশ্বের সবচেয়ে ক্ষমতাশালী একটি দূরবীক্ষণ যন্ত্র মহাশূন্যে উৎক্ষেপণ করা হয়েছে বছর শেষে। নতুন এই টেলিস্কোপের মূল বৈশিষ্ট্য হচ্ছে, একটি প্রতিফলক আয়না-যা ৬.৫ মিটার চওড়া। বিশালাকৃতির এই আয়নার পেছনে সোনার প্রলেপ লাগানো রয়েছে। বর্তমানে হাবল নামে যে মহাশূন্য টেলিস্কোপটি কাজ করছে-তার চেয়ে এটি প্রায় তিন গুণ বড় এবং ১০০ গুণ বেশি শক্তিশালী। এটির নামকরণ করা হয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাপোলো চন্দ্রাভিযানের অন্যতম স্থপতির নামে।

পৃথিবী রক্ষার পরীক্ষামূলক মিশন নাসার : পৃথিবীর দিকে ধেয়ে আসছে এমন গ্রহাণুকে তার গতিপথ থেকে ধাক্কা মেরে সরিয়ে দেওয়ার এক প্রযুক্তি পরীক্ষা করে দেখার জন্য মার্কিন মহাকাশ সংস্থা নাসা ডার্ট নামের একটি যান পাঠিয়েছে। নভেম্বরের ওই পরীক্ষাটা চালানো হবে ডাইমরফোস নামে একটি গ্রহাণুর ওপর।

বৃহস্পতির দিকে লুসি : বৃহস্পতির কাছে যেসব গ্রহাণু ঘুরে বেড়াচ্ছে-সেগুলো পরীক্ষানিরীক্ষা করে দেখতে একটি মহাকাশযান পাঠিয়েছে নাসা। কীভাবে সৌরজগৎ তৈরি হয়েছে, অক্টোবরে শুরু হওয়া এই অভিযান সেই রহস্য উন্মোচনে সহায়তা করবে বলে আশা করা হচ্ছে। একে বলা হয়েছে সৌরজগতের জীবাশ্ম খোঁজার অভিযান।-সূত্র : যুগান্তর

মূল প্রতিবেদনটি এখানে পেতে পারেন।