মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প আসন্ন প্রেসিডেন্ট নির্বাচনের আগে ইরানসহ আন্তর্জাতিক বিভিন্ন ইস্যুতে তার সাফল্যের বিষয়টি প্রমাণ করার জন্য উঠেপড়ে লেগেছেন। এভাবে তিনি নির্বাচনে জেতার চেষ্টা করছেন। সর্বশেষ তিনি দাবি করেছেন, আগামী মাসের নির্বাচনে বিজয়ী হলে তিনি ইরানের সঙ্গে তার ভাষায় একটি ‘অসাধারণ চুক্তি’ সই করতে সক্ষম হবেন।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প আমেরিকার বিখ্যাত রেডিও অনুষ্ঠান ‘রাশ লিম্বা শো’কে দেয়া সাক্ষাৎকারে এ বাগাড়ম্বর করেন। চুক্তির ধরন কেমন হবে এমন এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেছেন, ইরানের হাতে পরমাণু অস্ত্র না থাকার বিষয়টি নিশ্চিত করা হবে। প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প দায়িত্ব লাভের পর থেকেই ছয় জাতিগোষ্ঠীর সঙ্গে ইরানের সাক্ষরিত পরমাণু সমঝোতার তীব্র সমালোচনা করে আসছিলেন। অবশেষে তিনি ২০১৮ সালের ৮মে পরমাণু সমঝোতা থেকে বেরিয়ে গিয়ে ইরানের ওপর সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে দেশটির ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। কিছু দিন পরপরই তিনি নতুন নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেন। মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, এমনভাবে তিনি ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করবেন যাতে দেশটি আলোচনার টেবিলে ফিরে আসে এবং যুক্তরাষ্ট্রের ইচ্ছামত প্রণিত অসাধারণ চুক্তিতে সই করতে বাধ্য হয় তেহরান।
পর্যবেক্ষকরা বলছেন, ওয়াশিংটনের মূল উদ্দেশ্য হচ্ছে তাদের দাবির কাছে মাথা নত করতে তেহরানকে বাধ্য করা। মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মাইক পম্পেও ২০১৮ সালে পরমাণু সমঝোতা পুরোপুরি বন্ধ করে দিয়ে এমন একটি নতুন সমঝোতার কথা বলেছিলেন যেখানে ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং পশ্চিম এশিয়ায় দেশটির তৎপরতা সীমিত করে আনার বিষয়টি অন্তর্ভুক্ত থাকবে। মোটকথা নতুন ওই চুক্তিতে ইরানকে পুরোপুরি যুক্তরাষ্ট্রের কাছে আত্মসমর্পণ করতে হবে।
তবে ইরানের জনগণ মার্কিন কঠোর নিষেধাজ্ঞার বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তুলে ট্রাম্প প্রশাসনকে হতাশ করে দিয়েছে। এ কারণে মার্কিন সরকার এখন ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী বা আইআরজিসিকে সন্ত্রাসীদের তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে, কুদস ব্রিগেডের প্রধান জেনারেল সোলাইমানিকে হত্যা করে, ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে এবং ব্যাংক, কোম্পানি ও বিভিন্ন আর্থিক প্রতিষ্ঠানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিয়ে তাদের বিদ্বেষ ও ক্ষোভ চরিতার্থ করার চেষ্টা করছে।
প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প একদিকে দফায় দফায় ইরানের ওপর নিষেধাজ্ঞা দিচ্ছেন অন্যদিকে তেহরানের সঙ্গে সংলাপে বসার আহ্বান জানাচ্ছেন। ইরানের সঙ্গে আলোচনায় বসার অর্থ হচ্ছে ওয়াশিংটনের সব দাবি তেহরানকে চোখ বুজে মেনে নিতে হবে। কিন্তু এতে কোনো সন্দেহ নেই যে ইরান কখনোই এ ধরনের দাবির কাছে আত্মসমর্পণ করবে না এবং আমেরিকার সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ প্রতিরোধের নীতিতে অটল থাকবে।
আন্তর্জাতিক আণবিক শক্তি সংস্থা বা আইএইএর সাবেক প্রধান মোহাম্মদ আল বারাদি বলেছেন, ইরানের ব্যাপারে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বোচ্চ চাপ সৃষ্টির কৌশল ব্যর্থ হবে। এমনকি মার্কিন অনেক রাজনীতিবিদও এটা উপলব্ধি করতে পেরেছেন যে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী পম্পেও যতই ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টি করুন না কেন ইরান প্রতিরোধ চালিয়ে যাচ্ছে এবং বর্তমানে ট্রাম্প প্রশাসনই বলা যায় কোণঠাসা হয়ে পড়েছে। #
পার্সটুডে/রেজওয়ান হোসেন/১৩
[ad_1]
মূল প্রতিবেদনটি এখানে পেতে পারেন।


