উরুগুয়ের বিপক্ষে টানা ১১ ম্যাচ অপরাজিত রইলো ব্রাজিল; আট জয় ও তিন ড্র। দলটির বিপক্ষে ব্রাজিলিয়ানরা সর্বশেষ হেরেছিল ২০০১ সালে, বিশ্বকাপ বাছাইপর্বে ১-০ গোলে। উরুগুয়ের রাজধানী মন্টেভিডিওতে বাংলাদেশ সময় আজ (১৮ নভেম্বর) সকালে অনুষ্ঠিত ম্যাচে ২-০ গোলে জিতেছে ব্রাজিল। আপরদিকে এস্তাদিও ন্যাশনাল ডি লিমাতে লাতিন আমেরিকা অঞ্চলের বিশ্বকাপ বাছাইপর্বের ম্যাচে পেরুকে ২-০ গোলে হারিয়েছে আর্জেন্টিনা।
উরুগুয়ের ঘরের মাঠে স্বাগতিকদের এক কথায় পাত্তাই দেয়নি ব্রাজিল। ম্যাচের প্রথমার্ধেই দুই গোল করেন আর্থুর মেলো ও রিশার্লিসন। জবাবে দুইবার ক্রসবারে লাগানো ছাড়া পুরো ম্যাচে যেন খুঁজেই পাওয়া যায়নি উরুগুয়েকে। ব্রাজিল যেখানে অন্তত ৪টি শট রেখেছিল লক্ষ্য বরাবর, সেখানে উরুগুয়ে পারেনি একটিও। যদিও চোটের কারণে এই ম্যাচে ব্রাজিল দলে ছিল না নেইমার, ফিলিপে কৌতিনিহো ও ফাবিনিয়ো। আর করোনাভাইরাসের আক্রান্ত হয়ে মাঠের বাইরে ছিলেন কাসেমিরো। কভিড-১৯ এর আঘাতে উরুগুয়েও হারায় তাদের সেরা তারকা লুইস সুয়ারেসকে। পুরো ম্যাচ তাদের অনুপস্থিতি চোখে পড়েছে বেশ। তবু যাদের ওপর আস্থা রেখেছেন ব্রাজিল কোচ তিতে, তারা দিয়েছেন পূর্ণ প্রতিদান। যার ফলে এসেছে দুর্দান্ত এক জয়।
ব্রাজিল ম্যাচ জিতলেও শুরুতে স্বাগতিকদেরই দাপট ছিল বেশি। অবশ্য পরে ব্রাজিল আক্রমণ গড়ে ঠিকই এগিয়ে যায় ৩৪ মিনিটে। বক্সের বাইরে থেকে নেওয়া আর্থারের দুর্দান্ত গতির শট আর আটকাতে পারেননি উরুগুয়ে গোলকিপার কাম্পানা। গ্যাব্রিয়েল জেসুসের থেকে পাওয়া বল সময় নিয়ে নিয়ন্ত্রণে নেন আর্থুর। এরপর নেন শট। গোলরক্ষক মার্টিন কামপানা ডানদিকে ঝাপিয়েও দলকে গোল হজম থেকে বাঁচাতে পারেননি।
প্রথমার্ধ শেষ হওয়ার আগে স্বাগতিকদের জালে আরেকবার বল পাঠায় ব্রাজিল। এবারের স্কোরার রিচার্লিসন। ডি বক্সের অনেক বাইরে থেকে রেনান লোডির ক্রস থেকে মাথা ছুঁইয়ে গোল করেন রিচার্লিসন। দুর্দান্ত ফিনিশিংয়ে আসে দ্বিতীয় গোল। ২-০ গোলে এগিয়ে থেকে বিরতিতে যায় ব্রাজিল। দ্বিতীয়ার্ধে ফিরে নিজের প্রথমার্ধের ধারেকাছেও খেলতে পারেনি উরুগুয়ে। উল্টো ম্যাচের ৭১ মিনিটে রিচার্লিসনকে বাজে ট্যাকল করে লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয়েছে আরেক তারকা কাভানির। অবশ্য এই ফাউলের বেলায় ভার রিভিউয়ের সাহায্য নিয়েছিলেন রেফারি।
অপরদিকে নিজেদের চতুর্থ ম্যাচে পেরুর বিপক্ষে ২-০ গোলে জিতেছে ব্রাজিলের চির প্রতিদ্বন্দ্বী দল আর্জেন্টিনা। এতে করে ৪ ম্যাচে ৩ জয় আর ১ ড্রয়ে ১০ পয়েন্ট নিয়ে তালিকায় ব্রাজিলের পরেই দ্বিতীয় অবস্থানে আছে আলবিসেলেস্তেরা। শুরু থেকেই আক্রমণ পাল্টা আক্রমণে জমে ওঠে ম্যাচটি। তবে পেরুর আক্রমণগুলো ছিল অগোছালো। অন্যদিকে গোছানো আক্রমণে প্রতিপক্ষের ওপর চাপ বাড়াতে থাকে আর্জেন্টিনা। যার ফল পেতে সময় লাগেনি। ১৬ মিনিটে বামপ্রান্ত থেকে লো সোলসোর কাছ থেকে বল পাওয়ার পরের মুহূর্তেই মার্কারকে কাটিয়ে জালে জড়িয়ে দিয়েছেন বল। ২৮ মিনিটে ২-০ করেন লাউতারো মার্তিনেস। লিয়ান্দ্রো পেরেদের পাস ধরে ক্ষীপ্র গতিতে গোলমুখে এগিয়ে যান তিনি। গোলকিপারকে কাটিয়ে জালে বল জড়াতে এরপর ভুল করেননি এই স্ট্রাইকার।
অবশ্য দ্বিতীয়ার্ধে দারুণ কিছু সুযোগ তৈরির চেষ্টা করেছিলেন মেসি। কিন্তু সফল পরিণতি দিতে পারেননি একটিতেও। এই হারের ফলে ৭ ম্যাচ ধরে জয় বঞ্চিত থাকলো পেরু। আর স্ক্যালোনির অধীনে ১১ ম্যাচ অপরাজিত থাকলো আর্জেন্টিনা। এই জয়ে ৪ ম্যাচে ১০ পয়েন্ট নিয়ে পয়েন্ট তালিকার দুই নম্বরে উঠে এসেছে আর্জেন্টিনা। ১ পয়েন্ট নিয়ে নয় নম্বরে রয়েছে পেরু। টেবিলের শীর্ষস্থান ধরে রাখল ব্রাজিল। চার ম্যাচে পূর্ণাঙ্গ ১২ পয়েন্ট পাঁচবারের বিশ্বচ্যাম্পিয়নদের। আর কোন দলই এখন সব ম্যাচ জেতেনি। এছাড়া বাছাইয়ে দক্ষিণ আমেরিকান অঞ্চলে এখনও শতভাগ রেকর্ড ধরে রাখা দলটিও ব্রাজিল। অন্যদিকে চার ম্যাচে ৬ পয়েন্ট পাওয়া উরুগুয়ের অবস্থান পঞ্চম।
এদিকে এই অঞ্চলের অপর ম্যাচে গোল উৎসব করেছে ইকুয়েডর। কলম্বিয়াকে তারা উড়িয়ে দিয়েছে ৬-১ গোলে। অথচ এই ইকুয়েডরই গত বিশ্বকাপ বাছাইয়ের বৈতরণী উতরে যেতে পারেনি। ইকুয়েডর প্রথমার্ধেই করেছে চারগোল। কলম্বিয়া ১৯৭৭ সালের পর এমন লজ্জা পেলো বিশ্বকাপ বাছাইয়ের কোনও ম্যাচে। অবশ্য কলম্বিয়ার হয়ে একটি গোল শোধ দিয়েছেন হামেস রদ্রিগেজ। এই জয়ের পর ৯ পয়েন্ট নিয়ে তিনে রয়েছে ইকুয়েডর।
অর্থসূচক/এএইচআর
The post শীর্ষে ব্রাজিল, দুইয়ে আর্জেন্টিনা first appeared on ArthoSuchak.
মূল প্রতিবেদনটি এখানে পেতে পারেন।


