বর্তমানে ইন্টারনেট আমাদের দৈনন্দিন জীবনের একটি অংশ হয়ে গেছে। সারাদিনে একবার হলেও ফেসবুক, ইউটিউব, গুগল কিংবা খবর পড়তে বিভিন্ন পোর্টাল ব্রাউজ করি। সহজ কথায় ইন্টারনেট আমাদের জীবনকে সহজ থেকে সহজতর করে দিয়েছে। আমরা অনেক সময় সচরাচর ওয়েবসাইটগুলো ব্রাউজ করা ছাড়াও নিজেদের অজান্তে আরো অনেক সাইটই ইন্টারনেটে ব্রাউজ করে থাকি। এইরকম লাখ লাখ ওয়েবসাইটের ভিড়ে কিছু ওয়েবসাইট আছে যা আসলেই বিস্ময়কর। আজ সেরকমই কয়েকটি বিস্ময়কর ওয়েবসাইট নিয়ে আলোচনা।

পয়েন্টার পয়েন্টার ডটকম [pointerpointer.com] খুবই বিস্ময়কর একটি ওয়েবসাইট এটি। ওয়েবসাইটটিতে ঢুকে ওয়েবপেইজে মাউস পয়েন্টার যেখানেই নেয়া হবে সেখানেই আঙুল দিয়ে কিছু একটা ‘নির্দেশ’ করার মতো ছবি ওপেন হবে। মাউস পয়েন্টার যেখানেই ধরা হবে সেখানেই আঙুল দিয়ে ‘নির্দেশ’ করার অংশটি থাকবে। খুবই অদ্ভুত একটি ওয়েবসাইট এটি।
পয়েন্টার পয়েন্টার ডটকম ওয়েবসাইটটি বানিয়েছেন জনাথান পুকে, যিনি নেদারল্যান্ডের আমসটার্ডামভিত্তিক ইন্টারেক্টিভ ডিজাইন স্টুডিও স্টুডিও পুকে‘র প্রতিষ্ঠাতা। ওয়েবসাইটটিতে ফটো ব্যবহৃত হয়ছে মাত্র ৯১২টি। এ পর্যন্ত ওয়েবসাইটটি ১২.৫ মিলিয়নেরও বেশি ভিজিটর ভিজিট করেছেন আর মাসে গড়পড়তা ২,৫০,০০০-৫,০০,০০০ ভিজিটর ভেজিট করেন।
ওয়েবসাইটের মজাটা বোঝার জন্য সাইটটিতে প্রবেশ করুন আর নিজেই পরীক্ষা করে দেখে নিন।

দ্য ফেসেস অব ফেসবুক [thefacesoffacebook.com]
ওয়েবসাইটটিতে ঢুকলে প্রথমেই মনে হবে মরুভূমিতে তপ্ত রোদে জ্বল জ্বল করা বালিকণার সমাহার। আসলে ওয়েবসাইটটি হল ফেসবুক একাউন্টগুলোর তথ্যভান্ডার। জ্বল জ্বল করা বালিকণার ন্যায় অংশগুলো হলো একেকটি প্রোফাইল পিকচার। ফেসবুকের এ যাবতকালের সমস্ত প্রোফাইলের আপডেটেড পিকচারগুলোই এখানে আছে। ওয়েবসাইটটিতে ঢুকে পেইজের যে কোনো অংশে একটি ক্লিক করলেই পেইজটি জুম হয়ে ফেসবুক ইউজারদের প্রোফাইল পিকচারগুলো দেখা যাবে। মাউস ডানে বামে, উপরে নিচে নড়াচড়া করেও প্রোফাইল পিকচারগুলি দেখা যাবে। এখান থেকে যেকোন একটি পিকচারের উপরে ক্লিক করলে সেই পিকচারের উইজারের একাউন্টটি ব্রাউজারের নতুন একটি ট্যাবে ওপেন হবে। ওয়েবসাইটটিতে প্রতি মুহুর্তে ফেসবুকে কতগুলো একাউন্ট তৈরি হচ্ছে সেটাও রিয়েল টাইমে ক্যালকুলেট করে দেখানো হচ্ছে।

দ্য ফেসেস অব ফেসবুক সাইটটি বানিয়েছেন নাতালিয়া রোজাস, যিনি একজন ক্রিয়েটিভ টেকনোলজিস্ট, সফটওয়্যার ডেভলাপার এবং ইউএক্স (UX) ডিজাইনার। দ্য ফেসেস অব ফেসবুক কে নাতালিয়া তার “পারসোনাল এপিক প্রজেক্ট” (ব্যক্তিগত মহাকাব্যিক প্রকল্প) হিসেবে উল্লেখ করে থাকেন, যে ওয়েবসাইটটি ইতোমধ্যে ১.২ বিলিয়ন ভিজিটর পেয়েছে!

জুমকুইল্ট [zoomquilt.org] এটি খুবই আশ্চর্যজনক একটি ওয়েবসাইট। সাধারণত একটি স্থিরচিত্রকে যখন জুম করা হয়, তখন জুম হতে হতে সেটা ফেটে যায়, বড়ো একটা ছবিতে শেষপর্যন্ত শূণ্য বা খালি বা আকারহীন একটি দৃশ্য দেখা যায়। কিন্তু ইনফিনিটি জুমের ক্ষেত্রে সেটা হয়না। আপনারা অনেকেই ইনফিনিটি জুমের কথা শুনে থাকবেন, কিন্তু হয়ত দেখেননি। এই ওয়েবসাইটটি মূলত স্থিরচিত্রের মধ্যে সীমাহীনভাবে জুম হতে থাকা কোন একটি রূপকথা বা সভ্যতার গল্প। যেখানে আছে আকাশ, বন-জঙ্গল, পাহাড়-পর্বত, রাজ প্রাসাদ, মানুষ, জীবজন্তু ইত্যাদি। স্থিরচিত্রগুলো এমনভাবে জুম হতে থাকবে যে দেখে বোঝার উপায় নেই কিভাবে এতো নিখুতভাবে এটি তৈরি করা হয়েছে।
জুমকুইল্ট সাইটটি তৈরি করেছেন নিকোলাস বামগার্টেন, ২০০৪ সালে, এন্ড্রিয়াস শুইমান, ইরো পিটকানেন, ফ্লোরিয়ান বেলেজ, জেন কার্নটকে, লার্স গোটেস, লুইস ফেলিপে, মার্কাস ব্লাটারম্যান, মার্কাস নেডেল, পল পেইন্টার, অলিভার শেলমেমার, সোনাজা শ্নাইডার, থর্স্টেন ওলবার, টনি স্ট্যানলি, ভিল ভ্যানিনেন এরকম কিছু সহযোগীদের নিয়ে।

নিকোলাস বামগার্টেন আর তার সহযোগীদের বানানো আরো কয়েকটি ওয়েবসাইট আছে, দেখতে পারেন; মজা তো পাবেনই, অবাকও হবেন আশা করা যায়।
আর্কাডিয়া [arkadia]: এই ওয়েবসাইটি নিকোলাস বামগার্টেন তার সহযোগী সোফিয়া স্কোমবার্গকে নিয়ে বানিয়েছেন, ২০১৫ সালে। এই সাইটটিতেও দেখতে পাবেন ইনফিনিটি জুম-এর অবাক দৃশ্য।
ইনফিনিটজুম ডটনেট [infinitezoom.net]: এই সাইটে আপনি সাতটি চিত্র পাবেন, পরিবর্তন করে করে দেখতে পারেন। এমনকি রঙিন ছবিগুলোকে বর্ণহীন বা সাদাকালো আকারেও দেখতে পারেন।
গিরিহ ডিজাইনার [girihdesigner.com]: এই সাইটটিতে আপনি বিভিন্ন প্যাটার্ন বসিয়ে বসিয়ে নিজের মতো একটি ডিজাইন দাঁড় করাতে পারবেন।
জুমকুইল্ট অন এ্যাভিয়ন তেকুইলা [tequilaavion.com/zoomquilt]: এই সাইটেও আপনি ইনফিনিটি জুমের স্থিরচিত্র দেখতে পারেন।

এসে টাইপার [essaytyper.com] অনলাইনে নির্ভুলভাবে Essay বা ইংরেজি প্রবন্ধ লেখার জন্যে সবচেয়ে সহজ ওয়েবসাইট এটি। ওয়েবসাইটটিতে ঢুকে যেকোন একটি শব্দ লিখে এন্টার চাপলেই .doc পেইজ খুলে যাবে। সেখানে কী-বোর্ড থেকে যা ইচ্ছে টাইপ করে গেলেও নির্ভুলভাবে একটি প্রবন্ধ প্রিন্ট হতে থাকবে। সবচেয়ে মজার ব্যাপার হল কী-বোর্ডে যা ইচ্ছে তা টাইপ করলেও প্রবন্ধটি প্রিন্ট হওয়ার ক্ষেত্রে ধারাবাহিকতা বজায় রাখে।
আরও পড়ুন:
