ছবি ও গল্প: সোহরাওয়ার্দি উদ্যান

48
ফটো তুলতে গেছিলাম সোরোয়ার্দি উদ্যানে। সারাদিন প্যাচপ্যাচে বৃষ্টি, এর মাঝেই বিকেলে একটু বিরতি ছিল যে, সেই সময়টায়। কালীবাড়ির সামনে গাড়ী রেখে কাদামাটি পার হয়ে, একটু যে খোলা জায়গাটা আছে, সেইখানে দাঁড়িয়ে চিন্তা করছিলাম সোরোয়ার্দি উদ্যানে কিসের ছবি তুলবো? আমার সাথে ছিলেন আরেকজন বিশিষ্ট ফটোগ্রাফার দুরন্ত দুরা, তিনি দেখলাম ফটাফট লেগে গেলেন দূর্বা ঘাসের ফটো তুলতে। এইটা কিরে ভাই? দূর্বা ঘাসের ফটো এতো মনোযোগ দিয়ে তোলার কি আছে? দুরন্তের এই দুর্বা-ফটো তোলার আগ্রহ দেখে মনে মনে ওকে নাম দিলাম দুর্বাগ্রাফার।

সোহরাওয়ার্দি উদ্যান
সোহরাওয়ার্দি উদ্যানে, ছবি- ইমতিয়াজ মাহমুদ


না, সেখানেও ফটো তোলার মতো ইন্টারেস্টিং বিষয় আছে। ঐ যে নতুন স্থাপনাগুলি হয়েছে, আলোকস্তম্ভ ইত্যাদি, সেগুলি তো আছেই। এছাড়াও আছে গাছগুলি, ওদের ফুল, ওদের গায়ে গজিয়ে ওঠা ফাঙ্গাস। আর গুছিয়ে তুলতে পারলে ঘাসের ছবিও বেশ ভালো হতে পারে। আসলে একটু খেয়াল করে দেখলে চারপাশে সবখানেই এতো সুন্দর সুন্দর দৃশ্য আছে যে ছবি তুলতে আপনার ক্লান্তি আসবে না। সে যেখানেই হোক।

সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছে জন্মেছে রূপসী ব্যাঙের ছাতা। ছবি: ইমতিয়াজ মাহমুদ
সোহরাওয়ার্দি উদ্যানের গাছে জন্মেছে রূপসী ব্যাঙের ছাতা। ছবি: ইমতিয়াজ মাহমুদ


এই ছবিটি সেইসব সুন্দর দৃশের একটি না। এটি একটি এমনি এমনি করা প্যানোরামা। লক্ষ্য করে দেখলে কিছু টেকনিকাল ত্রুটি পাবেন। থাক ত্রুটি- ত্রুটিকে গুল্লি মারি- এমনি এমনি করা প্যানোরামাটাই পোস্ট করি। আপনি যদি সুন্দর করে দেখতে পারেন, এইটাও সুন্দর লাগবে। আর যদি আপনার চোখে ত্রুটি থাকে- থাকুক, থাকতেই পারে- তাইলে আপনি ছবিতে ত্রুটি খুঁজে পাবেন। আমার কাজ আমি করেছি- আনন্দের সাথে ছবি তুলেছি, প্যানো করেছি। আপনার কাজ আপনি করেন, দেখেন।