নকিব মুকশি’র তিনটি কবিতা


389

জঙ্গহুল-২
বালকের মূত্রে সেদ্ধ ডিম খেয়ে কসরতবাজিতে নামে চীনামাছ, আর আমি
তার টোল দেখি বিস্ময়ে, মসৃন বুকে দাঁড়িয়াবান্ধা খেলি, হঠাৎ আশ্চর্যে দেখি
এ মাছ তো মাছ নয়, এ যে মধ্যপ্রাচ্যের মানবমাংসের দোকানী!

প্রাচ্যের কিতাবটি আজ অকেজো পড়ে আছে, অসহায়
শাদা টুপিরা আত্মঘাতী খেলায় মত্ত; নেপথ্যে পশ্চিমের ড্রাগন!

ডিমের পীঠে আর কত ভেল্কিবাজি করবে? আর কত মাইন পুঁতবে?
আর কত উড়াবে উটপাখিটারে? এবার না হয় ছেড়ে দাও, বাবু
ডিমের সবুজে, দোঁ-আশ দুধে, ওর থেকে জেগে উঠুক হুরগুলো…বেজে উঠুক
নরম পুচ্ছের মায়াসুর…

উটপাখিটারে আর কত উড়াবে চাবুকে চাবুকে?
এবার না হয় ছেড়ে দাও, ছেড়ে দাও…বাবু

 

চীনামাছ ও ঘাঘরাপ্রেম
গোলপাতার গহনে ডুবে প্রান্তিক ভূমির তারালতায় আমি
ঘুমিয়ে ঘুমিয়ে ডোবার ফার্ণ তুলি, নদের কাঁকড়া উঠে এসে
চেপে ধরে রাখালের মোহনসুর! গম্বুজের পরিধি শিরশির করে
বেড়ে উঠলেই তুমি ঘাঘরার মতো জড়িয়ে ধর আমায়, উলুবনে
ঘেঁটুর খানকায়, সীবিচের নগ্নিকার নদঘ্রাণ ছুটে আসে
হোগলার বেলাভূমে, জেগে ওঠে আমার গহনে
বেণুবিহন

পাখাঘূর্ণনে বারবার ফিরে আসি, কেন জানি আসতে হয়,
তোমার ঝুলবারান্দার ছায়ায়, টোপাপানার মতো ভাসতে হয়
ট্রায়াঙ্গল নদে…

চীনামাছ আমার খুব প্রিয় বলে তুমিও গায়ে মাখ চীনামাছের গন্ধ
নলখাগড়ায় বসেও চিনাবাদাম খাও, ক্যারাটে শিখতে চাও!
মালভূমি থেকে যে হাওয়া আসে তাতেও লেখা থাকে
এক অবিভক্ত সার্বভৌম পুষ্ট ডিমের কথা, তা তুমি জানো বলেই
ভারতপাড়ে ফুটে অহিংসার কথা, রটে ডিমের বিষুররেখা ধরে ধরে…

আর দিন দিন শুধু জেগেই উঠে আমার মাঝে, বদ্বুদ-গহনে
চিনামাছ, রাখাল, শাদা টুপি, কুশমূলের মালা, সিঁদুর,…আর
নলখাগড়া ঘাঘড়াপ্রেম

 

ভালবাসা তোমার ব্রেকফাস্ট লাঞ্চ ডিনার
ভালবাসি শুধু ভালবাসি, চিম্বুক আমার কোমল সারসমনে,
ভালবাসা বিশ্বাস সেদ্ধ করি গহন হৃদয়ের আঁচে,
প্রমোদবিহারে আহারে ঠিক পাক্কা রন্ধনশিল্পীর মতো ক্ষণে ক্ষণে

সুয়া বলতেই হয় আজ প্রেম তোমার অমৃত, চুমু তোমার আরাধ্য, আর
ভালবাসা তোমার
ব্রেকফাস্ট, লাঞ্চ, ডিনার…