ফটোতে ইতিহাস: ২০১১ সালের সেরা কিছু ছবির পেছনের কাহিনী


    129

    স্মৃতি ধরে রাখার অন্যতম সেরা উপায় হয়তো ফটোগ্রাফ বা ছবি। কেননা, চলমান এই যুগের সঙ্গে তাল মিলিয়ে চলতে গিয়ে আমরা প্রায়শই অনেক বড় ঘটনাও নিমেষেই ভুলে যাই মাত্র সপ্তাহখানেকের ব্যবধানেই।

    তাই ফটোগ্রাফাররা ছবি তুলে রাখেন যেন সেসব স্মৃতি মানুষের মনে আজীবন বেঁচে থাকে। আর সেসব স্মৃতিকে তাজা করতেই আজকের এই আয়োজন।

    সাল-২০১১

    ২০১১ ছিল বিপ্লবের এক বছর। আরব বসন্ত দাবানলের মতো ছড়িয়ে পড়েছিল গোটা বিশ্বজুড়ে। এমনকি এই বছরই আমেরিকা পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনের বিরুদ্ধে এক গোপন অভিযান চালিয়েছিল।
    তাছাড়া, সুনামির আঘাত তো ছিলই। পাশাপাশি এই বছর বিশ্ব সাক্ষী ছিল এক রাজকীয় বিয়ের।

    ফেব্রুয়ারি, ২০১১

    তিউনিসিয়ায় নিজের গায়ে আগুন লাগিয়েছিলেন রাস্তার এক দোকানি মোহাম্মদ বুয়াজিজি। দেয়ালে পিঠ ঠেকে যাওয়া ওই ব্যক্তির সেই পদক্ষেপ থেকে জন্ম নিয়েছিল আরব বসন্ত আন্দোলন।

    সেই আগুনের স্ফুলিঙ্গ থেকে বিক্ষোভের দাবানল ছড়িয়ে পড়েছিল উত্তর আফ্রিকা ও মধ্য প্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে। পতন ঘটেছিল বহু স্বৈরশাসকের।
    মানুষ পরিবর্তনের দাবিতে নেমে এসেছিল রাস্তায়।

    Yuri Kozyrev. Tahrir Square, Cairo, Egypt. February 1, 2011
    ফটো: ইউরি কোজেরেভ / তাহরির স্কয়ার, কায়রো, মিশর / টাইম

    মিশরের কায়রোর তাহরির স্কয়ারে ফেব্রুয়ারি ০১, ২০১১ এর গণজমায়েতের ছবি এটি। হাজার হাজার মানুষ – এবং তাদের মধ্যে কিছু লোক এমন একজন ব্যক্তিকে সহায়তা করছে যে চেতনা হারিয়েছিলো। তাঁর সাথে কী ঘটেছিল তা দেখার সুযোগ কখনোই পায়নি এই ফটোর ফটোগ্রাফার, তবে তিনি নিশ্চিত যে আশেপাশের লোকেরা তাকে সহায়তা করছিলো। মাটিতে সেই পরিবেশ ছিল; মিশর সম্পর্কে, কায়রো সম্পর্কে, বিপ্লব সম্পর্কে তাদের বিভিন্ন মতামত থাকলেও লোকেরা একে অপরের যত্ন নিচ্ছিলো। আপনি যদি ছবিটি বিশদে দেখতে পেতেন তবে আপনি কেবল তরুণ বিপ্লবীদের বেশি দেখতে পাবেন। আপনি বৃদ্ধ লোকদের দেখবেন, আপনি সত্যি ধার্মিক লোক দেখবেন। প্রত্যেকে একসাথে ছিলও, এবং সেদিনটি খুব, খুব বিশেষ ছিলো।

    মার্চ, ২০১১

    হেইগাওয়া মোহনা থেকে মিয়াকো শহরের দিকে ধেয়ে আসা বিশাল ঢেউয়ের একটি স্থিরচিত্র। মার্চ মাসের ১১ তারিখ ৯.০ মাত্রার ভূমিকম্প ঘটে জাপানের ইওয়াতে প্রিফেকচারে। ভূমিকম্পের কারণে সুনামির সৃষ্টি হয় যা মিয়াকো এবং তৎসংলগ্ন আশেপাশের শহরকে তলিয়ে দেয়।

    Image Source: Mainichi Shimbun/Reuters
    ছবির উৎস: মাইনিচি সিমবান/রয়টার্স

    প্রায় ১৫,৮০০ জীবন নাশ হয় জাপানের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় আর ভয়ানক এই সুনামিতে। প্রায় ৩০ ফুট উচ্চতাসম্পন্ন এই ঢেউ এমনকি ফুকুশিমা দাইচু পারমাণবিক কেন্দ্রের পারমাণবিক চুল্লী পর্যন্ত বিপর্যস্ত করে ফেলেছিল। ফলে জাপানে চেরনোবিলের ন্যায় বিপর্যয়ের আশংকাও তৈরি হয়।

    এপ্রিল, ২০১১

    এই স্থিরচিত্রটি লিবিয়ার তেলসমৃদ্ধ শহর আজদাবিয়ার। এক বিদ্রোহী তরুণকে একে-৪৭ হাতে নিয়ে উল্লাস করতে দেখা যাচ্ছে। মূলত, তার কমরেডের ছোড়া রকেটের জন্যই তার এই উল্লাস। আর এই রকেট লঞ্চারটি ছাড়া হয়েছিল মুয়াম্মার আল গাদ্দাফির সৈন্যদের উদ্দেশ্য করে।

    ছবির উৎস: ক্রিস হনড্রস/গেটি ইমেজেস

    পরবর্তীতে গাদ্দাফি ক্ষমতাচ্যুত হন এবং বিদ্রোহীদের হাতে নিহতও হন। ১৯৬৯ সাল থেকে ক্ষমতায় ছিলেন লিবিয়ার এই লৌহমানব। পরের সপ্তাহে লিবিয়ার মিশ্রাতে সরকারী বাহিনীর একটি মর্টারের আঘাতে আহত হন এই ছবির ফটোগ্রাফার ক্রিস হন্ড্রোস।

    মে, ২০১১

    স্থিরচিত্রটি মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ওয়াশিংটন ডি.সির হোয়াইট হাউজের সিচুয়েশন রুমের। ভাইস-প্রেসিডেন্ট জোসেফ আর. বাইডেন জুনিয়র, প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা, সেক্রেটারি অফ স্টেট হিলারি ক্লিনটন এবং ডিফেন্স সেক্রেটারি রবার্ট গেটসসহ ন্যাশনাল সিকিউরিটি টিমের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের দেখা যাচ্ছে চিন্তিত অবস্থায়।

    Image Source: Pete Souza/The White House, via Associated Press
    ছবির উৎস: পিটি সৌজা / দ্য হোয়াইট হাউজ, ভায়া এপি

    কেননা, তারা সরাসরি দেখছে কমান্ডোদের অভিযানের ভিডিওচিত্র। আর এটি ছিল পাকিস্তানে ওসামা বিন লাদেনকে চিরতরে সরিয়ে দেয়ার অভিযান।

    ডিসেম্বর, ২০১১

    স্থিরচিত্রটি ১২ বছর বয়সী তারানা আকবারির আতঙ্কে চিৎকার করার দৃশ্য। আফগানিস্তানের কাবুলে অবস্থিত আবুল ফাজেল মাজারে আত্মঘাতী বোমা হামলা ঘটে ২০১১ সালের ডিসেম্বরে।

    Image Source: Massoud Hossaini/AFP/Getty Images
    ছবি: মাসুদ হোসাইনি / এএফপি / গেটি ইমেজেস

    জোড়া বোমা বিস্ফোরণে আফগানিস্তানের কয়েক ডজন মানুষ মারা যায়। ঘটনাটি ঘটেছিল মুসলিমদের জন্য পবিত্র হিসেবে গণ্য আশুরার দিনে।